কিভাবে ভারোত্তোলন করা যায়? এই পড়ুন || How to lift weights? Read this!

 ওয়েটলিফটিং

কিভাবে ভারোত্তোলন করা যায়? এই পড়ুন || How to lift weights?  Read this!
How-to-lift-weights

ওয়েটলিফটিংয়ের সমস্ত সম্বন্ধ মানব দেহের হাত দুটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে। উপরন্তু এই আসনে বুক এবং দু’টি পায়ের সম্পূর্ণ জোর লাগে।

Figure No. 2 চিত্রটি দেখুন। একজন ওয়েটলিফটিংকারী কিভাবে নিজের দেহের সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে ওয়েটকে পিছন পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছে। এবার নিচের অন্য চিত্রটি দেখুন। ওয়েটলিফ্‌টারের ওয়েট তোলার প্রস্তুতির চিত্র। এই সময় ওর সম্পূর্ণ শক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। বুক, দু’টি বাহু, সব একসঙ্গে কাজ করছে। চিত্র দেখে নিন।

যেমন প্রথমেই বলা হয়েছে যে, এই কাজে হাত দু’টির শক্তি বেশি প্রয়োজন হচ্ছে। সমস্ত দেহ গঠনকারীর প্রথমে এইদিকে মনোনিবেশ করা দরকার। দু’টি হাতকে শক্তিশালী করে

ওয়েটলিফটিং Figure No.1
Figure No.1

তোলার জন্যে পৃথকভাবে প্রশিক্ষণ নিতে হয় এবং পৃথকভাবেই এর অভ্যাস করার প্রয়োজন হয়। সেই সঙ্গেই বুক এবং দু’টি পায়ের সম্পূর্ণরূপে অভ্যাস অর্থাৎ ব্যায়াম হয়। তবুও আমাদের এই কথায় সন্তুষ্টি হয়। না যে, সমস্ত শরীর বাহুর সঙ্গে যুক্ত করেই অভ্যাস করি।

আজকাল নতুন প্রণালীর অন্তর্গত কার্লিগমুব মান্ট যাতে একটি পরিবর্তন হয়, সেটি আপনার মোল্‌ডিং-এর গতিতে সহায়তা করে থাকে। এতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

ওয়েটলিফটিং Figure No.2
Figure No. 2

হাত দুটিকে শক্তিশালী করে তোলার দ্বিতীয় প্রণালী যেটি, সেটি কিছু কঠিন। এতে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এই বিষয়ে বিশ্বের প্রসিদ্ধ শরীর চর্চাকারী আরনোল্ড এক বর্জনজরও স্বীকার করেছেন যে ২২” ইঞ্চির দ্বিশিরাযুক্ত পেশী পুটুঠীকে প্রাপ্ত করেছেন। কিন্তু তা লোকপ্রিয় না হবার কারণ এই যে, এটি খুব কঠিন অভ্যাস। সব নর-নারী সহজে এটি করতে পারে না।

আর্ম কল এবং প্রয়োগ

যুগ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সব কিছুই পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে এবং অনেক পরিবর্তনও হয়েছে। যখনই কোনও আসন বা ব্যায়াম লোকপ্রিয় না হয়ে অসফল হয়, তখন তার সেইস্থান পূরণ করার জন্য নতুন কৌশল আবিষ্কার হতে দেরি হয় না।

আর্ম কল এবং প্রয়োগ  Figure No. 3
Figure No. 3

আর্ম কল ব্যায়ামের আবিষ্কার এই কারণেই হয়েছে। এটি নতুন আবিষ্কার। Figure No. 3 দেখুন।

এই চিত্রে মাংসপেশী তৈরি করার জন্য কিভাবে একজন প্রশিক্ষক তাঁর ছাত্রকে আর্ম কল ব্যায়ামের অভ্যাস করাচ্ছেন। ওয়েটলিফটিং করার জন্য প্রারম্ভিক প্রশিক্ষণে দুটি হাতে যে ওজন তোলা যায় না, তার কঠিনত্ব দেখে আর্মকলের প্রয়োগ শুরু হয়েছে। আমরা এটিকে ওয়েটলিফটং ব্যায়ামের প্রথম পাঠ বলতে পারি। এটি বেশ সহজ সরল প্রশিক্ষণ। একে আপনি ঘরে অথবা চেয়ারে বসেও করতে পারেন। Figure No. 4 চিত্রটি দেখুন। চিত্রে দেখতে পাচ্ছেন কিভাবে অভ্যাস করা যায়।

চিত্রে দেখুন, কিভাবে একজন সুস্থ ব্যক্তি এই ওয়েটকে এক হাতের সাহায্যে তুলছে। এখন আপনাকেও এই রকমভাবে এই অভ্যাস করতে হবে।

 অভ্যাস—১

১। প্রথমে একে ওপরে আপনার কাঁধ পর্যন্ত নিয়ে যান।

Figure No. 4
Figure No. 4

২। তারপর আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসুন, অর্থাৎ নামিয়ে নিন। এই অভ্যাসকে প্রতিদিন প্রথম আরম্ভ করা কালীন চার বার করে করবেন। তারপর ক্রমশঃ ৪-৫-৬-৭ বার এইভাবে বাড়িয়ে করতে থাকুন।

এই অভ্যাস নিরন্তর ৪০দিন পর্যন্ত করলে মাংসপেশী খুব মজবুত হয়ে ওঠে। এই অভ্যাস প্রথমে করার সময় মাংসপেশীতে খুব বেদনা অনুভব হয়ে থাকে অর্থাৎ ব্যথা অনুভূত হয়। কিন্তু ক্রমে ক্রমে এই বেদনা কম হয়ে যায় বা কমে যায়। কয়েকদিনের মধ্যেই অভ্যাস বেশ সহজ হয়ে যাবে। 

অভ্যাস – ২

২নং অভ্যাস ঠিক প্রথমের মতোই হবে। তবে দ্বিতীয় অভ্যাসে প্রথমের চেয়ে কিছু বেশি ওজন হবে। এই অভ্যাস বসে করা যাবে না, এটি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে করতে হয়। ডান হাতে আপনি ডাম্বেলকে ধরবেন, দ্বিতীয় হাত কোন বেঞ্চ থবা টুলের ওপর রাখবেন। তারপর প্রথম অভ্যাসের মতোই ওপর-নীচ করতে থাকুন।

প্রথম অভ্যাসে আমরা দু’টি ডাম্বেল সেট নিয়েছি। এবার এর সংখ্যা তিন-তিন করে নিন।

অভ্যাস—৩

এই অভ্যাসে মাংসপেশী বেশি শক্তিশালী এবং পুষ্টতা বেশি পাওয়া যায়। অর্থাৎ পুষ্ট হয়ে ওঠে।

এই অভ্যাসে ডাম্বেলের ওজন আরও বেশি অর্থাৎ তিনটি-তিনটির স্থানে চার চার করে নিতে হবে। তার মানে ডাম্বেলের ওজন বেশি ভারী হবে। একে সুইংবেল আসন বলা হয়ে থাকে।

অভ্যাস – ৪

এই অভ্যাস করতে গেলে আপনাকে কাঠের কোনও তক্তায় শুয়ে পড়তে হবে। নিজের মুখ তক্তার বাইরে রাখবেন। তারপর আপনার দুটি হাতের দ্বারা ডাম্বেলকে শুয়ে থাকা অবস্থাতেই ওপরে তুলুন। মনে রাখবেন, ওপরে তোলার সময় আপনার ঘাড় যেন বেঁকে না যায়। ডাম্বেলকে নিজের কাঁধের ওপর পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে আবার নিচে নিয়ে আসুন।

এই অভ্যাস প্রথমে আরম্ভের সময় সপ্তাহে প্রতিদিন ২ বার করুন এবং দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রতিদিন ৩ বার করুন।

তৃতীয় সপ্তাহে প্রতিদিন ৪ বার অভ্যাস করুন। চতুর্থ সপ্তাহেও প্রতিদিন ৪বার করে অভ্যাস করবেন। পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম সপ্তাহে প্রতিদিন ৫ বার করে অভ্যাস করুন।

আর্ম কল এবং প্রয়োগ Figure No. 5
Figure No. 5

১২ সপ্তাহ পর্যন্ত এইভাবে অভ্যাস করলে আপনি লৌহ-মানব হয়ে যাবেন। আপনার পেশীতে যদি কেউ লাঠির দ্বারা আঘাত করে, তাহলে লাঠি ভেঙ্গে যাবে কিন্তু আপনার মাংসপেশীর কোনও ক্ষতি হবে না।

Leave a Comment