বৃদ্ধ বয়সে নতুন (teeth) দাঁত? হ্যাঁ বর্তমানে সম্ভব!

বুড়ো বয়সেও গজাবে নতুন দাঁত?
বুড়ো বয়সেও গজাবে দাঁত!

বুড়ো বয়সেও কি গজাতে পারে নতুন দাঁত?

জাপানি বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী গবেষণায় বাস্তবের পথে দাঁত পুনর্গঠনের চিকিৎসা

কৃত্রিম দাঁতের পাটি হারিয়ে যাওয়া বা ইমপ্ল্যান্টের বিপুল খরচ—দাঁত (teeth) হারানো মানুষদের জীবনে এই সমস্যাগুলো নতুন নয়। কিন্তু এবার সেই চেনা বাস্তবতাকে বদলে দিতে চলেছে জাপানি বিজ্ঞানীদের এক যুগান্তকারী আবিষ্কার। গবেষকদের দাবি, ফোকলা মাড়িতেই আবার গজাতে পারে একেবারে স্বাভাবিক নতুন দাঁত।

সব কিছু পরিকল্পনা মতো এগোলে, ২০৩০ সালের মধ্যেই এই চিকিৎসা সাধারণ মানুষের নাগালে আসতে পারে।


দাঁত না থাকলে কী কী সমস্যা হয়?

বয়স, দুর্ঘটনা কিংবা বিভিন্ন রোগের কারণে দাঁত পড়ে গেলে মানুষের জীবনে নানা সমস্যা দেখা দেয়—

  • মুখের গঠন বদলে যায়
  • খাওয়া-দাওয়ায় চরম অসুবিধা হয়
  • স্পষ্টভাবে কথা বলতে সমস্যা দেখা দেয়
  • আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক স্বাচ্ছন্দ্য কমে যায়

বর্তমানে ভরসা বলতে কেবল ডেনচার (কৃত্রিম দাঁতের পাটি) বা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট। তবে প্রাকৃতিকভাবে নতুন দাঁত গজানোর কোনও কার্যকর পদ্ধতি এতদিন ছিল না।


নতুন দাঁত গজানোর গবেষণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাপানি বিজ্ঞানীরা

এই যুগান্তকারী গবেষণার নেতৃত্বে রয়েছেন কিয়োটো ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী ডক্টর কাতসু তাকাহাশি। তাঁর গবেষক দল মানবদেহে থাকা একটি বিশেষ প্রোটিন চিহ্নিত করেছেন, যার নাম USAG-1

বিজ্ঞানীদের মতে—

  • এই প্রোটিনটি দাঁতের স্বাভাবিক বৃদ্ধি দমন করে
  • দাঁত গজানোর প্রক্রিয়ায় এটি একটি ‘ব্রেক’-এর মতো কাজ করে

গবেষকরা এমন একটি মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি ওষুধ তৈরি করেছেন, যা USAG-1 প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে দাঁত গজানোর প্রক্রিয়াকে আবার সক্রিয় করে তুলতে পারে।


ইঁদুর ও ফেরেটের ওপর পরীক্ষায় মিলেছে বড় সাফল্য

২০১৮ সালে প্রথম পরীক্ষামূলক সাফল্য আসে। ইঁদুরের ওপর এই অ্যান্টিবডি প্রয়োগ করে দেখা যায়—

  • তাদের মুখে নতুন দাঁত গজাচ্ছে

তবে মানুষের সঙ্গে ইঁদুরের দাঁতের গঠনে পার্থক্য থাকায় গবেষকরা পরবর্তী ধাপে ফেরেট নামের একটি প্রাণীকে বেছে নেন। ফেরেটের দাঁতের গঠন মানুষের সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে।

ফেরেটের ওপর পরীক্ষাতেও একইরকম আশাতীত সাফল্য পাওয়া যায়। ফাঁকা মাড়িতে সম্পূর্ণ নতুন দাঁত গজাতে দেখা যায়।


মানুষের ওপর শুরু হয়েছে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল

গবেষণাকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ২০২৪ সালে গড়ে তোলা হয় ‘তোরেগেম বায়োফার্মা’ নামে একটি স্টার্টআপ সংস্থা। এই সংস্থাই বর্তমানে ওষুধটির উৎপাদন ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের দায়িত্বে রয়েছে।

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বর্তমান অবস্থা

  • ২০২৫ সালে শুরু হয়েছে প্রথম ধাপ
  • সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর পরীক্ষা চলছে
  • মূল লক্ষ্য:
    • ওষুধটি মানবদেহে নিরাপদ কি না
    • কোনও গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে কি না

এই ধাপ সফল হলে, পরবর্তী পর্যায়ে জন্মগতভাবে দাঁতের অভাবে ভোগা শিশুদের ওপর চিকিৎসাটি প্রয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।


২০৩০ সালের মধ্যে সাধারণ মানুষের নাগালে আসতে পারে চিকিৎসা

ডক্টর তাকাহাশি ও তাঁর গবেষক দল আশা করছেন, সব ধাপের ট্রায়াল সফল হলে—

  • কৃত্রিম দাঁত বা ইমপ্ল্যান্টের ওপর নির্ভরতা কমবে
  • লক্ষ লক্ষ মানুষ স্বাভাবিক দাঁত ফিরে পাবে
  • দন্তচিকিৎসায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সফল হলে দাঁত চিকিৎসার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।


দাঁত চিকিৎসায় নতুন দিগন্তের অপেক্ষায় বিশ্ব

যে বিষয়টি এতদিন কল্পবিজ্ঞানের গল্প বলে মনে হতো, তা আজ বাস্তবের খুব কাছাকাছি। বয়স যাই হোক না কেন, নিজের দাঁতে আবার হাসতে পারার স্বপ্ন দেখছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ।

সবকিছু পরিকল্পনা মতো এগোলে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই দাঁত হারানো আর আজীবনের দুঃস্বপ্ন হয়ে থাকবে না।

Source link

2 thoughts on “বৃদ্ধ বয়সে নতুন (teeth) দাঁত? হ্যাঁ বর্তমানে সম্ভব!”

Leave a Comment