বর্ষার সর্দি-কাশি (cold and cough) থেকে বাঁচার সহজ ঘরোয়া উপায়

বর্ষাকালে অনেকেরই বৃষ্টির জলে ভিজে শরীর খারাপ হয়। এই সময়ে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে ঠান্ডা লেগে জ্বর, সর্দি-কাশির (Cold And Cough) মতো সমস্যাগুলো দেখা দেয়। তাই বর্ষার সময় শরীরের প্রতি যত্নশীল না হলে বড় রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এমনকি বৃষ্টিতে ভিজে গেলে জ্বর পর্যন্ত হতে পারে। আসুন জেনে নিই, বৃষ্টিতে ভিজে ঠান্ডা, জ্বর, সর্দি-কাশি থেকে বাঁচতে কী করবেন।

বর্ষার সর্দি-কাশি (cold and cough) থেকে বাঁচার সহজ ঘরোয়া উপায়
বর্ষাকালীন স্বাস্থ্যের যত্নের টিপস

১. জামা-কাপড় পরিবর্তন করুন:-

বৃষ্টিতে ভিজে গেলে প্রথমেই ভেজা জামা-কাপড় ছেড়ে ফেলুন। তারপর গরম জলে ভালোভাবে স্নান করুন এবং শরীর শুকিয়ে নিন। এরপর শুকনো কাপড় পরুন। এতে ঠান্ডা লাগা, সর্দি-কাশির (Cold And Cough) ঝুঁকি কমবে। স্নানের পর এক কাপ গরম দুধ বা চা খেলে শরীর গরম থাকবে ও সুস্থ বোধ করবেন।

২. গরম জলে স্নান করুন:-

গরম জলে স্নান শরীরকে গরম রাখতে সাহায্য করে। এতে ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি কমে এবং ত্বকের ব্যাকটেরিয়াও মরে যায়। শরীর গরম থাকলে সংক্রমণ কম হয়।

৩. আদা ও তুলসীপাতা খান:-

বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফেরার পর আদা ও তুলসীপাতা খান। এই দুই উপাদানে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য আছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও সর্দি-কাশি (Cold And Cough) দূরে রাখে।

৪. হলুদ ও দুধ খান:-

হলুদ ও দুধ খেলে সর্দি-কাশির (Cold And Cough) ঝুঁকি কমে। এতে অ্যান্টিসেপটিক ও অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি গুণ থাকে, যা শরীরকে সুরক্ষিত রাখে।

৫. গরম জলের ভাঁপ নিন:-

গলা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা নাক বন্ধ হলে গরম জলের ভাঁপ নিন। ভাঁপ নেওয়ায় ব্যাকটেরিয়া মরে যায় ও নাকের বন্ধভাব কমে। এতে ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।

৬. পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন:-

বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফেরার পর শরীরকে বিশ্রাম দিন। পর্যাপ্ত ঘুমালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। প্রোটিনযুক্ত খাবার খান এবং যথেষ্ট ঘুমান, এতে শরীর সুস্থ থাকবে।

ঠান্ডা কমানোর ঘরোয়া উপায়

ঠান্ডা লাগার সমস্যা কমাতে কিছু ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক উপায় অনুসরণ করা যেতে পারে, যা সহজলভ্য এবং দ্রুত কার্যকর। এই সময় শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি, যা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে সাহায্য করে। আদা, তুলসী, মধু, এবং লেবুর মতো প্রাকৃতিক উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরকে সর্দি-কাশি (Cold And Cough) থেকে রক্ষা করে। এছাড়া, গরম স্যুপ, লবণ-পানির গার্গল, এবং গরম পানির ভাঁপ শরীরকে উষ্ণ রাখে এবং জমে থাকা কফ ও মিউকাস দ্রুত বের করে দেয়, যা শ্বাস নিতে সহায়ক। ঠান্ডা লাগার সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শরীরের শক্তি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে এবং দ্রুত আরোগ্য লাভে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

এছাড়া, ঘরের পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন এবং গরম রাখা জরুরি, যাতে ঠান্ডার প্রকোপ কম থাকে। ঘরের তাপমাত্রা বেশি কমানো উচিত নয় এবং শীতল বাতাস প্রবেশ থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রয়োজনে গরম কম্বল ব্যবহার করুন এবং সঠিকভাবে শরীরকে আবৃত রাখুন। ঠান্ডা লাগার সময় হাত ধোয়া ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অপরিহার্য, কারণ সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া, বেশি তেল-মশলাযুক্ত খাবার পরিহার করে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। যদি ঠান্ডার সঙ্গে জ্বর, গলা ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। নিয়মিত গরম পানীয় এবং প্রাকৃতিক প্রতিরোধক খাবার গ্রহণ করে ঠান্ডা থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে পারেন এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে পারেন।

বর্ষাকালে শরীরের সুরক্ষায় আরও কিছু কার্যকর পরামর্শ

বর্ষাকালে শরীরকে সুস্থ রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাসও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় বেশি করে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল যেমন কমলা, লেবু, এবং আমলকি খাওয়া উচিত। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া, রসুন ও মধু খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং ঠান্ডা-সর্দি প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস গরম জলে লেবু ও মধু মিশিয়ে পান করলে শরীরের মেটাবলিজম বাড়ে, যা ঠান্ডা ও জ্বরের সমস্যাকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি, প্রচুর জল পান করা এবং শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা খুব জরুরি, কারণ এটি শরীরের টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়।

এছাড়া, বর্ষার সময় ঘর-বাড়ির পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও অত্যন্ত জরুরি। ঘরে যেন পানি জমে না থাকে এবং বাতাস চলাচল ভালো হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বর্ষার সময় ঘরে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, তাই ঘর নিয়মিত জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার রাখা উচিত। দরজার হাতল, রান্নাঘর, এবং বাথরুম নিয়মিত জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করলে ঠান্ডা বা অন্য সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। এ ছাড়া ঘরে জুতা রেখে ঢুকুন এবং ভেজা জুতা বা কাপড় যেন ঘরের মধ্যে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

বর্ষার সময় ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাত ধোয়া, স্যানিটাইজার ব্যবহার, এবং পরিষ্কার তোয়ালে ব্যবহার করা খুবই জরুরি। বৃষ্টিতে ভেজা অবস্থায় চোখ, মুখ, নাক স্পর্শ না করাই ভালো, কারণ এর মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। বাড়িতে এসে হাত, পা ও মুখ ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। শরীরের জন্য আলাদা তোয়ালে ব্যবহার করুন এবং অন্যান্যদের সঙ্গে শেয়ার করবেন না। বর্ষার সময় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। এই সাধারণ কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বর্ষাকালে শরীরকে সুস্থ রাখবে এবং রোগের ঝুঁকি থেকে আপনাকে রক্ষা করবে।

আরও পড়ুনঃ- ভাইরাল জ্বরের লক্ষণ  | viral fever symptoms : সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা

যৌবন (youth) ধরে রাখার চাবিকাঠি: সঠিক খাবার ও খাদ্যাভ্যাস

বর্ষার সময় শরীরকে সুস্থ রাখতে এই সহজ কিছু পদক্ষেপ মেনে চললে ঠান্ডা লাগা বা সর্দি-কাশির (Cold And Cough) ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

Leave a Comment